নামায অপরিহার্য

 নামায অপরিহার্য 


ফিকহ শাস্ত্রের প্রধান ও প্রসিদ্ধ সব ইমাম এ বিষয়ে একমত যে কোনো ব্যক্তির নামাজ কাজা হলে বা ছুটে গেলে পরবর্তীতে তা আদায় করতে হবে। কেউ সুযোগ থাকার পরও যদি কাজা নামাজ আদায় না করে, তবে পরকালে তাকে জবাবদিহি হতে হবে। এই বিষয়ে ইসলামী শরিয়তের দলিলগুলো হলোঃ


কোরআনের নির্দেশঃপবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন,"নিশ্চয়ই মুমিনদের ওপর নামাজ অপরিহার্য"যার সময়সীমা নির্ধারিত। (সুরা নিসা,আয়াতঃ১০৩) 

এই আয়াতের  প্রত্যেক নামাজের জন্য বিশেষ সময় নির্ধারন বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তেমন নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা না হলে পরবর্তী সময়ে ওই নামাজ কাজা করার বিষয়টি পরোক্ষভাবে বলা হয়েছে ।


আল্লাহর ঋণ আদায় করতে হয়ঃ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক নারী রাসুল (সা.)-এর কাছে বলল, আমার মা একদা মান্নত করেছিলেন যে, তিনি হজ্ব 

 করবেন।তা পূর্ণ করার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন। (এক্ষেত্রে করণীয় কী?) রাসুল (সা.) বললেন, তুমি তার পক্ষ থেকে হজ্ব করো। বলো তো যদি তোমার মা কারো নিকটে ঋণী হতেন তুমি কি তার ঋণ পরিশোধ করে দিতে? নারী বলল,হ্যাঁ। তখন নবীজি (সা.) বললেন, তাহলে তোমার আল্লাহর ঋণ ও পরিশোধ করো। তিনি তাঁর প্রাপ্য পাওয়ার অধিক উপযুক্ত। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৫২)


এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, যে আমল বান্দার ওপর ফরজ তা বান্দার ওপর আল্লাহর পাওনা। সেই পাওনা থেকে দায়মুক্তির একমাত্র পথ হলো তা আদায় করা


আরও পরুন ঃচোখের রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে রাসূল (সা.) এর সান্তনা   

(The consolation of the Prophet (peace be upon him) to a person suffering from an eye disease) 


রাসুলুল্লাহ (সা.) এর আমল : রাসুল (সা.) এর হাদিস,আমল ও সাহাবিদের অনুসৃত পদ্ধতি দ্বারাও প্রতীয়মান হয়। কোনো কারণে কেউ সময় মতো নামাজ পড়তে না পারলে পরবর্তীতে তা কাজা করে নিতে হবে। নিম্নে দৃষ্টান্ত দেওয়া হলো


১।  খন্দকের যুদ্ধে শত্রুবাহিনী দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকার কারণে রাসুল (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের কয়েক ওয়াক্ত নামাজ কাজা হয়ে যায়। রাতে ছুটে যাওয়া সেই নামাজ তাঁরা আদায় করেন। 

(সহিহ বুখারিঃ১/৮৩; সহিহ মুসলিমঃ১/২২৬)


২।  একই ভাবে নবী (সা.) থেকে বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি নামাজের কথা ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে থাকে তার কাফ্ফারা হলো, যখন তার নামাজের কথা স্মরণ হবে তখন তা আদায় করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিসঃ৫৯৭)


উম্মতের ইজমাঃ মুসলিম উম্মাহর সকল বরেণ্য মুজতাহিদ ইমাম এ ব্যাপারে একমত যে ফরজ নামাজ নির্ধরিত সময়ে আদায় করতে না পারলে পরে তা কাজা করতে হবে। ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, সকল আলেমরা এ কথার ওপর ঐক্যমত পোষণ করেন যে, জেনে শুনে ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ পরিত্যাগ করলে তা কাযা করা জরুরি। (তাফসিরে কুরতুবিঃ১/১৭৮)


শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, যদি কারো দায়িত্বে কাজা নামাজের পরিমাণ অনেক বেশি হয় তবে সুন্নাত নামাজে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে ছুটে যাওয়া ফরজ নামাজসমূহের কাজা করাই উত্তম। (ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া : ২২/১০৪)

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url