রাগ দমন ও ক্ষমা করা মুমিনের মহৎ গুন
রাগ দমন ও ক্ষমা করা মুমিনের মহৎ গুন
আসসালামুয়ালাইকুম,
, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম,
দুনিয়ায় একটি কথা আছে রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। রাগ হচ্ছে মানুষকে বিপদে ফেলার শয়তানের একটি
জঘন্যতম হাতিয়ার। রাগ মানুষ কে ক্ষতি বা বিপদে ফেলে দেয়।
মানুষের ধ্বংস হওয়ার একটি অন্যতম্য কারণ হলো রাগ। রাগান্বিত অবস্থায় মানুষের প্রত্যেকটি পদক্ষেপে ভুল হয়। অতিরিক্ত রাগ মানুষের মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। রাগে মানুষের ক্ষতি ছাড়া ভালো কিছু হয় না। তাই আমাদের কে রাগ দমন করতে হবে। রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি রাগ দমন করতে পারে সে ব্যক্তি বীর।
কেননা রাগ দমন কার একটি অত্যান্ত কঠিন কাজ।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা দৌড়ে চলো ঐ ক্ষমার দিকে যা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আছে। আর দৌড়ে চলো ঐ জান্নাতের দিকে যা আসমান ও জমিন সমান প্রশস্ত, যা তৈরি করা হয়েছে মুত্তাকী মানুষ যারা আল্লাহর পথে ব্যয়করে, আর যারা রাগ কে নিয়ন্ত্রণ করে ও মানুষের অপরাধ ক্ষমা করে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ভালোবাসেন।
মুমিন একটি বড় গুণ হলো রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখা ও অপরাধ ক্ষমা করা।
যা অত্যন্ত বিশেষ উচ্চ মর্যাদসম্পন গুণ। যখন কোনো মানুষের দ্বারা ভুল ত্রুটি হয়ে যায়। তখন তার জন্য সত্তরটা কারণ তৈরি করে নিজের মন কে বুঝাও, তা কাছে এতো গুলো কারন আছে। আর যখন অন্তর এগুলো কে মেনে না নেয়। তখন সেই ব্যক্তির পরিবর্তে নিজের মনকে তিরস্কার করো, যে তোমার মধ্যে এতবেশী নিষ্টরতা কঠরতা রয়েছে ঐ ব্যক্তি সত্তরটা কারণ দেখানোর পর ও তাকে ক্ষমা করতে পার্তেসো না।
এরুপ কোনো ব্যক্তি কারণ পেশ করলে, তবে তাকে ক্ষমা করে দাও। কারণ রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তির কাছে কহ অপারগত প্রকাশ করে আর সে তাকে ক্ষমা করে না, তার এই পরিমাণ গুনাহ হয় যে পরিমাণ গুনাহ অবৈধ শুল্ক উসুলকারীর হয়। আবার রাসূলুল্লাহ (সা.) মুমিনদের গুণ সম্পর্কে বলেন, মুমিনরা দ্রুত রাগ হয়ে যায় এবং সেই রাগ দ্রুত কমিয়া যায়।
তিনি এরুপ বলেন নাই রাগ আসে না, বলেছেন রাগ জলদি দূর হয়ে যায় বা কমে যায়।
ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেছেন, হঠাৎ এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো যেটা রাগের বিষয় তখন যাদের এই রাগের বিষয়ে রাগ আসে না, তিনি তাকে গাধা বলেছেন। আর যে রাজি করা সত্ত্বেও রাজি হয় না, সে শয়তান। রাগ আসে না এ কথা বলেন নাই। রাগ আসবে কিন্তু আল্লাহ তায়ালা রাগকে হজম করতে বলেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, য মানুষ রাগ আসা স্বত্বেও তা কার্যকর না করে হজম করে নেয় আল্লাহ তায়ালা তাকে নিরাপত্তা ও ইমান দ্বারা পরিপুর্ণ করে দেয়।
প্রকৃত গুন হলো শক্তি, সামর্থ থাকা সত্ত্বেও ধর্য্য ধারণ করা বা সবর করা। মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট অধিক পছন্দনীয় কাজ হলো গোস্বা বা রাগের ঢোক পান করে নেওয়া। আর যে ব্যক্তি রাগের ঢোক পান করিয়া নেয়, আল্লাহ তায়ালা তার অন্তর কে ঈমান দ্বারা ভরে দেয়।
এক হাদিসে আছে, যে মানুষ ক্ষমতা, শক্তি থাকা সত্ত্বেও রাগ বা গোস্বা কে হজম করে নেয়। মহান আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিবসে সমস্ত মাখলুকের সামনে তাকে ডাকিয়া বলবেন, তোমার মনে যে হুর চায় তা বাছিয়া লও। আবার রাসূল (সা.) বলেছেন, ঐ ব্যক্তি বাহাদুর নয় যে অন্য মানুষ কে ধরাশায়ী করে রাখে।
বরং বাহাদুর হলো সেই ব্যক্তি যে গোস্বা বা রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে।
মানুষের ঈমান কে নষ্ট করে দেয় রাগ। রাসূলুল্লহ (সা.)বলেন, তিক্ত কোনো ফল যেমন মধু কে নষ্ট করে দেয় ঠিক তেমনি ভাবে মানুষের ঈমান কে নষ্ট করে দেয় রাগ। রাগ শয়তানের এমন একটি অস্ত্র যা মুমিনের দুনিয়া ও আখিরাত ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট। অকারণে রাগ যেমন মানুষের ঈমান ধ্বংস করে দেয়।
ঠিক একইভাবে ভাবে পরকাল কে নষ্ট করে দেয়।
শয়তান মানুষের মনে বিভিন্ন উপায়ে রাগ জালিয়ে দেয়। আর একরণে আমাদেরকে শয়তানে হাত থেকে বাঁচতে হবে। বাঁচার জন্য কাজ করতে হবে। আমাদের বেশি বেশি ইসতেগফার পাঠ করা। যাতে করে শয়তানের সমস্ত প্ররোচনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বেশি বেশি আল্লাহ তায়ালা কে সেজদা করা।
এতে করে শয়তানের কু-মন্ত্রনা বাঁচা সম্ভব। বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে হবে। দরুদ পাঠ করলে মানুষের আত্মার বা দিলের প্রশান্তি মেলে। ফলাফল হিসেবে মানুষের রাগ কমে যায়।
পরিশেষে, রাগ নাই এমন মানুষ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর রাগ আসে শয়তানের পক্ষ থেকে। এজন্য রাসূল (সা.) বলেছেন, রাগ মানুষের আসবে কিন্তু এটাকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে হবে।
এবং অপরাধ কারীকে ক্ষমা করে দিতে হবে। একজন মুমিনে একটি মহৎ গুন হলো ক্ষমা করা। তাই আমাদের কে আল্লাহ তায়ালা শয়তানের যঘন্যতম হাতিয়ার রাগ বা ক্রোধ থেকে বাচার তাওফিক দান করুন। এবং দুনিয়ার ও আখিরাত এর কামিয়াবি হাসিল করার তাওফিক দান করুন। (আমিন)
