৮ টি আমলের মাধ্যমে জান্নাত

৮ টি আমলের মাধ্যমে জান্নাত 
(Jannat through 8 periodes)


প্রতিজন মুসুলমান ও মুমিনের জন্য জান্নাত কাম্য। 

মহান আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে যাওয়ার জন্য আমাদের কিছু দিকনির্দেশনা বা পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। আর তা হলো রাসূল (সা.)এর জীবন আদর্শ বা সিরাতুল মুস্তাকিম। রাসূল (সা.)এর জীবন আদর্শ মতে চলতে হলে কিছু কাজ কর্ম বা আমল করা অত্যাবশক। মহানবী (সা.) বিনাবাধায় জান্নাতে/বেহেস্তে যাওয়ার জন্য কিছু সহজ আমল ও কাজ বলে দিয়েছে।


 রাসূল (সা.)এর এক সাহাবী হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালামা (রা.) বলেন, যখন রাসূল (সা.) মদিনায় আসেন, তখন আমিও মদিনায় এলাম। তারপর আমি যখন তাঁর পবিত্র চেহারা মোবারকের দিকে তাকালাম, তাঁর চেহারা মোবারক দেখে আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি কখনোই মিথ্যাবাদী নন। তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, দারেমি, মিশকাত শরীফের একটি হাদিসে রাসূল (সা.) যে কথা বলেন, তা হলো- হে মানুষেরা, ১. বেশি বেশি করে তোমরা সালাম দাও ২. অনাহারিকে গরিব,মিসকিন,এতিম কে (অনাহারিক) খাবার খাওয়াও ৩. নিজেদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো। যদি কোনো কিছুর দ্বারা না পারো তাহলে সালাম দিয়ে হলেও আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখো। ৪. রাতের ওই অংশে সালাত বা নামাজ আদায় করো, যখন মানুষেরা গভীর ঘুমে মগ্ন থাকে। অতঃপর বিনাবাধায় বেহেস্ত/জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। 


 মুসলিম শরীফের একটি হাদিসে আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) একদিন প্রশ্ন করেন, ১.তোমরা আজ কে রোজা রেখেছো? তখন হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বলেন, আমি আজ রোজা রেখেছি। রাসূলুল্লাহ (সা.) আবার প্রশ্ন করেন, ২. তোমরা আজ কে জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ করেছো? তখন হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বলেন, আমি আজ জানাজার অংশগ্রহণ করেছি । রাসূলুল্লাহ (সা.) আবার ও প্রশ্নে করেন, ৩. তোমরা আজ অনাহারীকে কে খাবার দান করেছো? আবারও হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বলেন, আমি আজ অনাহারীকে কে খাবার দান করেছি। মহানবী (সা.) পুনরায় প্রশ্ন করেন, ৪. আজ তোমরা কে রোগীর সেবা করেছো? আবারো হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বলেন, আমি আজ কে রোগীর সেবা করেছি । অতঃপর মহানবী রাসূল (সা.) বলেন, তোমাদের যার মধ্যে এগুলো সব একত্র হয়েছে সে অবশ্যই বেহেস্তে যাবে। অন্য একটি হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, ১. আল্লাহর ইবাদত করো ২. গরিব,মিসকিন, অনাহারিকে খাদ্য দাও ৩. সালাম বেশি বেশি আদান-প্রদান করো ৪.


 অতঃপর বিনাবাধায় জান্নাতে প্রবেশ করো (তিরমিজি, মিশকাত)। হাদিসের মাধ্যমে জানা যায় যে, জান্নাতে যাওয়ার আমল ও কাজ হলো, ১. সালাম দেয়া ২. অন্যকে খাবার খাওয়া ৩. আত্মীয়তার মধ্যে সম্পর্ক ঠিক রাখা ৪. শেষ রাতে উঠে নামাজ/সালাত পড়া ৫. নফল রোজা রাখা ৬. জানাজায় অংশ গ্রহণ করা ৭. অসুস্থ ব্যাক্তির বা রোগীর খেদমত করা ও ৮. আল্লাহর ইবাদত করা। ১. সালাম : সালাম ইসলামের একটি সর্বোত্তম আমল। সালাম আদান-প্রদান করার মাধ্যমে সম্পর্কের বন্ধন মজবুত হয়। একজন সাহাবি মহানবী (সা.)কে জিজ্ঞেস করলো, ইসলামের কোন আমলটি সবচেয়ে সর্বোত্তম। তিনি এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, অন্যকে খাবার খাওয়ানো এবং পরিচিত ও অপরিচিত ব্যাক্তিদের কে সালাম দেয়া। সালামের দ্বারা ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। রাসূল (সা.) বলেন, মুমিন হওয়া ছাড়া কেউ বেহেস্তে যাবে না, আর নিজেদের মধ্যে ভালোবাসা ছাড়া মুমিন হওয়া যাবে না। তাই তিনি বলেন মানুষে-মানুষে ভালোবাসা সৃষ্টি হয় সালাম বিনিময় এর মাধ্যমে। তাই তিনি বেশি বেশি সালাম আদান-প্রদান করতে বলেছেন । এতে করে দুনিয়াতে শান্তি ও আখিরাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ২. অন্যকে খাবার খাওয়ানো : অন্যকে খাবার খাওয়ানোর মতো সাওয়াব আর কিছুতে নেই। এতিম ,গরিব,মিসকিনকে খাদ্য দানে আল্লাহ তায়ালা অনেক খুশি হন। তাই মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি পেটভরে খাবার খেলো অথচ তার আশেপাশে তার প্রতিবেশী অনাহারে থাকলো সে মুমিন নয়। ৩. আত্মীয়তার মধ্যে সম্পর্ক বজায় রাখা : মহানবী (সা.) বলেছেন, যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক ভঙ্গকারী তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।



 তিনি আরো বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি নিজ রিজিকের মধ্যে প্রশস্ততা পেতে চায় এবং নিজ হায়াত বৃদ্ধি করতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। ৪. শেষ রাতে উঠে নামাজ পড়া : নফল নামাজের মধ্যে সর্ব্বতম ফজিলতপূর্ণ নামাজ হলো শেষ রাতের নামাজ অর্থাৎ তাহাজ্জুদের নামাজ। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর স্বীয় স্ত্রীগণ তাকে শেষ রাতে নামাজের জন্য ডেকে দিতেন। সাহাবাদের মধ্যেও রাতের এ নামাজের প্রচলন ছিল। আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল করিমের সূরা সাজদায় বলেন , তারা শয্যা ত্যাগপূর্বক তাদের প্রতিপালককে ডাকে আশায় ও আশঙ্কায়। রাসূল (সা.) বলেন, তোমাদের উচিত শেষ রাতে উঠে নামাজ পড়া। কারণ এটি তোমাদের আগে সব পুণ্যবান মানুষের নিয়মিত আমল ছিল। এ নামাজ তোমাদেরকে তোমার রবের নিকট পৌঁছিয়ে দেয়, গুনাহগুলো আমলনামা থেকে মুছে দেয় এবং পাপ কাজ থেকে দূরে রাখে। ৫. নফল রোজা রাখা : মহানবী (সা.) অনেক বেশি নফল রোজা রাখতেন। নফল রোজা রাখার আমল সাহাবাদের মাঝেও বেশি ছিল।রাসূল (সা.) সোমবার ও বৃহস্পতিবার এবং প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখতেন। তিনি সবচেয়ে বেশি রোজা রাখতেন শাবান মাসে। ৬. জানাজায় অংশগ্রহণ করা : মহানবী (সা.) বলেন, একজন মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের ছয়টি হক রয়েছে। সেগুলো হলো,দেখা হলে সালাম দেয়া, দাওয়াত দিলে দাওয়াতে অংশগ্রহণ করা, কল্যাণ কামনা করলে কল্যাণকামী হওয়া, হাঁচি দিলে হাঁচির জবাব দেওয়া, অসুস্থ হলে সেবা করা এবং মৃত্যুতে তার জানাজায় অংশগ্রহণ করা। 



একজন মানুষ অন্য আর একজন মানুষের প্রতি এ হোক গুলো আদায় করতে হয়। ৭. অসুস্থ বা রোগীর সেবা করা : অসুস্থের/রোগীর সেবা করা সুস্থ মানুষের কর্তব্য। আল্লাহ তায়ালা মানুষের সেবায় অনেক খুশি হন। মহানবী (সা.) বলেন, বিচার দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলবেন, হে আমার আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমার সেবা করো নাই। তখন মানুষ বলবে- হে আমার প্রভু! আমরা কিভাবে আপনার সেবা করব। আপনি তো জগতের প্রতিপালক সৃষ্টিকর্তা। মহান আল্লাহ বলবেন, আমার অমুক বান্দাহ অসুস্থ ছিল, অথচ তুমি তার সেবা করো নাই। 



তার সেবা করলে আমার করা হতো,তার বিনিময় আমার কাছে এর সাওয়াব পেতে। ৮.মহান আল্লাহর ইবাদত করা : মহানবী (সা.) এক সাহাবী হজরত মুয়াজ (রা) কে বলন, হে মুয়াজ! তুমি কি জানো, বান্দার ওপর মহান আল্লাহর হক কী? আর আল্লাহর ওপর বান্দার হক কী? হজরত মুয়াজ রা: বলেন,এ বিষয়ে আল্লাহ ও রাসূল (সা.) অধিক জ্ঞানী। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, বান্দার ওপর আল্লাহর হক হলো আল্লাহর ইবাদত করা ও তাকে কোনো কিছুকে সাথে শরিক না করা, আর আল্লাহর ওপর বান্দার হক হলো তাকে শাস্তি না দিয়ে জান্নাত দেওয়া ।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url