কুরআনে হাফেজদের মর্যাদা (The satatus of Hafej in the Qur'an)
কুরআনে হাফেজদের মর্যাদা
(The satatus of Hafej in the Qur'an)
আসালামুআলাইকুম,
পরমকরুনাময় মহান আল্লাহর নামে শুরু,
মহাগ্রন্থ পবিত্র আল কুরআনুল কারিমে হিফজকারী অর্থাৎ হাফেজদের মর্যাদা গুরুত্বের সাথে দিয়েছেন। পবিত্র আল কুরআনে বলা হয়েছে হাফেজ গণ দুনিয়াতে যেমন সম্মানিত তেমন আখিরাতেও সম্মানিত। সৃষ্টি জগতের মালিক মহান আল্লাহ ওয়াতায়ালা তাদেরকে অনেক মর্যাদা ও সম্মানিত করেছেন। একটি হাদিস শরিফে তাদের ব্যাপারে অনেক সুখবর জানানো হয়েছে।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমরা বর্তমান সময়ে তাদেরকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিচ্ছি না। আবার রাসূল সাল্লেলাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফেজদের কে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বুখারি শরীফের একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লেলাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই সকল ব্যক্তি যে নিজে কুরআন শিখে ও অন্যকে কুরআন শিক্ষা দেয়। এই হাদিসের মাধ্যমে বুঝাযায় পবিত্র কুরআন শিক্ষার গুরুত কত। পবিত্র আল কুরআন এর শিক্ষা গ্রহণ করলে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মান,মর্যাদা,ইজ্জৎ বেড়ে যায়।
আল কুরআনুল কারীম শেষ বিচার বা কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লেলাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাদে যারা মহান আল্লাহর হুকুমে কিয়ামতের দিবসে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে তা হলো আল কুরআন ও সিয়াম(রোজা)।
রাসূলে আকরাম সাল্লেলাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সিয়াম ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। কিয়ামতের দিবসে সিয়াম (রোজা) বলবে, হে আমার রব, আমি তাকে দিনের বেলায় খানা গ্রহণ করতে ও পাপ কাজের তাড়না থেকে বাধা দিয়েছি। তাই আমি তার পক্ষে আমার সুপারিশ করলাম। হে আমার রব আমার সুপারস কবুল করুন। আবার আল কুরআন বলবে, হে রব, আমি তাকে রাতে নিদ্রা(ঘুম) থেকে বিরত রেখেছি। অতএব তার পক্ষে থেকে আমি সুপারিশ করছি। হে রব আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতঃপর উভয়ের সুপারিশই মহান আল্লাহর দরবারে কবুল করা হবে। (হাদিস মুসতাদরাক হাকিম, মুসনাদে আহমাদ)।
আবু দাউদ নামক একটি হাদিসের গ্রন্থে বলা আছে, পবিত্র আল কুরআন তিলাওয়াত কারীদের পিতা-মাতার বিশেষ সম্মাননা(হাদিয়া): সাহল ইবনু মুআজ আল-জুহানি রহ: কর্তৃক বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লেলাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে ও তা অনুযায়ী আমল করে কিয়ামতের দিবসে তার পিতা-মাতাকে এমন মুকুট(টুপি) পরিয়ে দেওয়া হবে যার আলো সূর্যের আলোর চেয়েও উজ্জ্বল হবে। মনেকরুন, যদি সূর্য তোমাদের ঘরে বিদ্যমান থাকে (তাহলে তার আলো কি রকম হবে)। সেরূপ আলোয় আলোকিত হবে। তাহলে যে সকল ব্যক্তি কুরআন অনুযায়ী আমল করে তার ব্যাপারটি কেমন হবে, ধারণা করো তো।
তিরমিজি শরীফের একটি হাদিসে বলা হয়েছে ; কুরআন চর্চাকারী দের জন্য সংবর্ধনা বা সম্মাননা : যে ব্যক্তি গণ দুনিয়াতে কুরআন শিখবে ও তা অনুযায়ী আমল করবে কিয়ামতের দিন তাদের জন্য বিশেষ জন্য সংবর্ধনা বা সম্মাননা দেওয়া হবে। আবার অনুরূপ ভাবে কুরআন হিফজ করবে কিয়ামতের দিন তাদের ও বিশেষ জন্য সংবর্ধনা বা সম্মাননা দেয়া হবে। আবু হোরায়রা (রা:) কর্তৃক বর্ণিত- রাসূলে আকরাম সাল্লেলাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কুরআন কিয়ামত এর দিনে হাজির হয়ে বলবে, হে আমার রব, একে (কুরআন তিলাওয়াতকারী,হাফেজ কে) অলঙ্কার পরিয়ে দিন। তারপর তাদের কে সম্মান ও মর্যাদার মুকুট পরিয়ে দেওয়া হবে। আল কুরআন আবার বলবে, হে আমার প্রভু, তাকে আরো পোশাক পরিয়ে দিন। অতঃপর তাকে মর্যাদার পোশাক পরানো হবে। আল কুরআন আবার বলবে, হে আমার রব , তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। কাজেই আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর সন্তুষ্ট হবেন। তারপর তাদের বলা হবে, তোমরা একেক আয়াত পাঠ করতে থাকো ও ওপরের দিকে উঠতে থাকো। এমনিভাবে প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে তাদের একটি করে সওয়াব (মর্যাদা) বাড়ানো হবে।
আল কুরআন তিলাওয়াতকারীরা আল্লাহর আহাল : কুরআনুল কারিম তিলাওয়াতকারীদের কে রাসূলে আকরাম সাল্লেলাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর আহাল অর্থাৎ পরিবার এর সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। রাসূলে আকরাম সাল্লেলাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যারা কুরআন তিলাওয়াত করে আল্লাহ তায়ালার পরিবারের সদস্য।
হজরত আনাস বিন মালিক (রা:)নামক সাহাবী থেকে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লেলাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কিছু মানুষ আল্লাহ তায়ালার পরিজন। সাহাবি গণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল(সা.), তারা কারা?রাসূলুল্লাহ সাল্লেলাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কুরআন তিলাওয়াতকারীরা আল্লাহর আহাল অর্থাৎ পরিবারের সদস্য এবং আল্লাহ তায়ালার বিশেষ বান্দা।
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করেছে এবং তাকে সংরক্ষণ করেছে ও হিফজ রেখেছে, আর তারা হালালকে হালাল ও হারামকে হারাম মেনেছে আল্লাহজরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা:) কর্তৃক বর্ণিত:
একজন হাফেজে কুরআন ১০ জনের জন্য সুপারিশ করবে। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লেলাহু হ ওয়াতায়ালা তাদের কে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তাদের বংশ থেকে এমন ১০ জনকে সুপারিশ করার সুযোগ দান করবেন। যাদের ওপর জাহান্নাম নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। তারা এমন ১০ জন জাহান্নামি ব্যক্তি সুপারিশ এর মাধ্যমে জান্নাতে পরিবেশ করতে পারবে।
পরিশেষে আল্লাহ তায়ালা কুরআন কারিমের মর্যাদা এতটা দিয়েছে যে কোনো ব্যক্তি যদি ওযু সহকারে কুরআন তিলাওয়াত করে। তার তিলাওয়াতের প্রতিটি অক্ষর এর জন্য সাওয়াব পাবে। আবার আলেম সমাজ বলেন আল্লাহ তায়ালা কোরানের মর্যাদা এতোটা দিয়েসেন যে, কুরআন এর প্রতি নেক দৃষ্টি তে তাকালেও সাওয়াব হয়। গুনাহ মাফ হয়ে যায়। তাই আসুন আমরা কুরআনুল কারিম হিফজ শিক্ষা গ্রহণ করি ও যথাসাধ্য মতো বুঝে তিলাওয়াত করি এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের আমল আকলাখ গঠন করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের বুঝার তাওফিক দান করুন। (আমিন )