মসজিদ পরিছন্ন রাখলে যে সাওয়াব The reward for keeping the mosque clean

মসজিদ পরিছন্ন রাখলে  যে সাওয়াব 
(The reward for keeping the mosque clean)


আসসালামুআলাইকুম,
পরমকরুনাময় মহান আল্লাহ তায়ালার নামে শুরু করছি, 


মসজিদ মহান আল্লাহ তায়ালার ইবাদাতের ঘর। যা মুসলিম সম্প্রদায়ের ইবাদাতে লিপ্ত হওয়ার প্রধান বা মূলকেন্দ্র। যেখানে মুসলিম সমাজ বা সম্প্রদায় আল্লাহ তায়ালার হুকুম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে। এবং দলবদ্ধ বা জামাতের সহিত আদায় করে।  আমাদের রাসুল সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম যখন মক্কা থেকে মদিনা সফরে (হিজরত) যান তার প্রথম দিনেই তিনি মসজিদ নির্মাণের কাজে প্রতক্ষ্যভাবে  অংশ গ্রহণ করেন। মদিনায় সফরের (হিজরত) সময় পথচলার বিরতিতে তিনি কুবা নামক একটি স্থানে প্রথম মসজিদ স্থাপন করেন। যা ইসলামের প্রথম মসজিদ। এরপর তিনি মদিনায় পৌঁছে মসজিদ- ই-নববী নির্মাণ করেন। রাসূল সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম মসজিদকে পৃথিবীর সর্বোশ্রেষ্ট জায়গা বলে আখ্যায়িত করেছেন।


একটি হাদিসে বর্ণনা আছে, হজরত আবু উমামা বাহেলী (রা.) নামক একজন সাহাবী বলেন, ইয়াহুদীদের একজন ধর্মগুরু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করল, পৃথিবীর অভ্যান্তরে সর্বউত্তম জায়গা কোনটি? সেই প্রশ্নের জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষন থাকলেন এবং তারপর বলেন, তুমিও নীরব থাকো  যতক্ষণ জিব্রাইল (আ.) না আসেন। তারপর  জিব্রাইল (আ.) আসলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিব্রাইল (আ.) জিজ্ঞেস করলেন। জিব্রাইল (আ.) উত্তরে বলেন, জিজ্ঞাসা কারী থেকে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি অধিক জ্ঞেনি  নন। কিন্তু আমি আমার আল্লাহকে জিজ্ঞাসা করব।


অতঃপর জিব্রাইল (আ.) বলেন, হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  আমি আল্লাহর এতো নিকটে গে ছিলাম,যে এতো নিকটে এর আগে আর কেউ যায়নি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার প্রশ্ন করলেন, কত নিকটে গেছিলেন? জিব্রাইল (আ.) বললেন, তখন আমার ও আল্লাহ  তায়ালার মধ্যে মাত্র সত্তর হাজার নূরের পর্দা দুরুত ছিল। আল্লাহ্ তায়ালা বলেছেন, পৃথিবীর সর্বোচ্ছ খারাপ বা নিকৃষ্টতর স্থান বাজার এবং উৎকৃষ্ট বা  উত্তম স্থান মসজিদ।  (হাদিস- ইবনু হিববান; মিশকাত;)


কোন ব্যক্তি উৎকৃষ্ট বা সর্বোত্তম স্থান মসজিদ নির্মাণ বা স্থাপন ও তার সঠিক ভাবে রক্ষণবেক্ষন করে মহান আল্লাহ তাদের অনেক বেশি ভালোবাসে ও পছন্দ করেন। এবং আল্লাহ তায়ালা তাদের কে অপরিসীম সাওয়াবদান করে। পবিত্র কোরআন শরিফে বলা হয়েছে, তারাই তো আল্লাহর মসজিদের রক্ষণবেক্ষন বা আবাদ করবে। আর যে ব্যক্তিগণ ঈমান আনে আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি, নামাজ (সালাত) আদায় করে,দান -ছদকা, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পায় না। আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে শরিক করে না তারাই তো হবে সৎপথ প্রাপ্তদের দলভুক্ত। আর সৎপথ প্রাপ্তদের কে আল্লাহ খুশির সংবাদ দিয়েছেন। তারাই তো জন্নাতের সম্মান জনক স্থানে স্থান পাবেন।

বুখারি শরীফের একটি হাদিসছে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির বা নৈকট্য  জন্য মসজিদ নির্মাণ করবে, মহান আল্লাহ তায়ালা সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতে একই ধরণের ঘর নির্মাণ  করে দেবেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লেলাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেন,কোনো  ব্যক্তি যেনো মসজিদ ঘর নির্মাণের পাশাপাশি এর রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচর্যা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্ব দেয় এবং তা সব সময় পরিষ্কার ও পরিছন্ন এবং সুগন্ধিময় রাখে। তাদের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) একজন সাহাবী হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বৰ্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার সেই সব উম্মত বা জাতির  সওয়াব বা পূন্ন তাদের ইবাদাত আমার সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। আবার যদি কোনো ব্যক্তি মসজিদ থেকে ময়লা-আবর্জনা বের করে মসজিদ কে পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখে। রসূলুল্লাহ (সা.)এর দৃষ্টিতে সেও অনেক সওয়াবের কাজ করে। এবং তার আমল নামায় সোয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। আরও বলা হয়েছে কেন ব্যক্তি যদি মসজিদে অনুদান বা দান করে। তা হলে সেই ব্যক্তি সবসময় সাওয়াবের অঙ্কশিদার হবে।সে ব্যাক্তি মৃত্যুর ও সেই অনুদান এর সাওয়াব পাবে।

 মসজিদ যত দিন থাকবে তিনি ততো দিন সাওয়াব পাবে। এমন কি সেই সাওয়াব কিয়ামতের আগ মুহূর্ত পৰ্যন্ত পাবে ।
রাসূল (সা.) এর সাহাবী ইবনে আবুদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কাঁচা পেঁয়াজ,রসুনজাতীয় খাবার খাবে, আবার কোনো কোনো সময় তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন বা মুলা খাবে সে যেন মসজিদের কাছে ও না আসে। কারণ মানুষ যেসব জিনিস মাধ্যমে কষ্ট পায় ফেরেশতারাও সেসব জিনিস মাধ্যমে কষ্ট পায়। তাই মসজিদ সব সময় পরিচ্ছন্ন ও সুবাসিত রাখতে হবে। এটা সমস্ত মুসলমানের দায়িত্ব। আবার হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এলাকায় এলাকায় মসজিদ নির্মাণ করতে এবং তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং সুবাসিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।


আবার বুখারী শরীফের একটি হাদিসে আছে মসজিদে থুথু ফেলা নিষিদ্ধ। হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.)বর্ননা করেন,রাসূল (সা.) বলেছেন, মসজিদে থুথু ফেলা অনেক বড় গুনাহের কাজ, আর তার জন্য কাফফারা হচ্ছে থুথু মুছে ফেলা।


সর্বোপরি যে কেউ স্বইচ্ছায় মসজিদের সেবা করতে পারে। এতে করে যেমন মসজিদের পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখার কাজ সম্পূন্ন হয়। আবার একই সাথে মসজিদের সেবাও করা হবে। সেই সাথে অসেস সাওয়াব অর্জন করা যায়। এতে করে দুনিয়ায় যেমন শান্তি পাওয়া যায়। তেমন পরকালেজান্নাতের শান্তি ও জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।  আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে মসজিদের সেবা করার তাওফিক দান করুন । (আমিন)


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url