জিহ্বা বা জবানের হেফাজত করার গুরুত্ব (The importance of guarding the tongue)

জিহ্বা বা জবানের হেফাজত করার গুরুত্ব (The importance of guarding the tongue)  


                                     

  আসসালামুআলাইকুম, পরমদয়ালু মহান রব্বুল আলামিনের নামে শুরু, মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের কে অসংখ্য নিয়ামত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য নিয়ামতের দ্বারা ভরপুর মানুষের শরীর। মহান আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে এক অনন্য নিয়ামত হলো জবান। আল্লাহ তায়ালা জবানের মাঝে বান্দার বহুবিধ কল্যাণ দিয়েছেন। 



মানুষের শ্রেষ্ট সম্পদ হলো জিহ্বা বা জবান।


 কোনো মানুষ জিহ্বা ছাড়া কথা বলতে পারে না। এ জন্য জিহ্বা বা জবান আল্লাহ তায়ালার মাহাদান। মানুষ তার জবান দ্বারা দুঃখ, কষ্ট, বেদনা, আনন্দ, উল্লাস ও মনের ভাব প্রকাশ করে .এক কথায় সমস্ত অংগের মুখপাত্র হলো জবান। এক মাত্র বোবাই বোঝে জবানের গুরুত্ব কতো। সে বুঝতে পারে জবান কতো বড় একটা নিয়ামত।আর জান্নাত বা জাহান্নাম হবে মানুষের জবানের কারণে। যার সঠিক ব্যবহার করলে মানুষ জান্নাতের দিকে এবং এর অপব্যবহার করলে জাহান্নামের দিকে ধাবিত হয়। একদা হযরত মুয়ায (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.) জানতে চাইলেন, আমাদের কে এমন কিছু আমল দেন, যা দ্বারা আমরা বেহেশতে যেতে পারি এবং দুযোখের আগুন হতে দূরে থাকতে পারি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করো এখলাসের সাথে, কাউকে শরিক করো না আল্লাহর সাথে, নামায কায়েম করো, যাকাত আদায় করো, রোযা রাখো রমজানে এবং বাইতুল্লাহ শরীফের হজ্জ করো।



 আবার রাসূল (সা.) বলেন,


 আমি কি তোমাদের কে ভালো কাজের পথসমূহ বলে দেব। যা হলোঃ রোযা ঢালস্বরূপ অর্থাৎ মানুষ দুমনের হামলা থেকে রক্ষার জন্য যেমন ঢাল ব্যবহারে প্রতিহত হয় তেমনি শয়তানের হামলা রোযার দ্বারা প্রতিহত হয়। আর সদকা এমন ভাবে এমন ভাবে গুনাহ সমূহকে নিভিয়ে দেয়, যেমন আগুন কে পানি নিভিয়ে দেয়। এবং রাতের মধ্যভাগে নামায পড়া। আবারও রাসূল (সা.) বলেন আমি কি তোমাদের কে সমস্ত কাজের মাথা, খুটি আর উহার চুড়া বলে দেব। তা হলেনঃ সমস্ত কাজের মাথা হলো ইসলাম কারণ ইসলাম ছাড়া কোনো কিছুর গ্রহনযোগ্যতা নাই। যার খুঁটি হলো নাময কারণ ঘর যেমন খুটি ছাড়া টিকে না তেমন নামায ছাড়া ইসলাম টিকা মুসকিল। আর চুড়া হলো জিহাদ করণ ইসলামের উন্নতি হয়েছে জিহাদের দ্বারা। রাসূল (সা.) বলেন, এই সব বিষয়ের শিকড় কি জানো। তখন রাসূল (সা.) নিজ হাত দ্বারা জিহ্বা ধরে বলেন, এই জবান কে নিয়ন্ত্রণ করে রাখা। তখন মুয়ায (রা) প্রশ্ন করেন,আমরা মুখে যে সব কথা তার ব্যাপারে কি জিজ্ঞাসা করা হবে।



 রাসূল (সা.) বলেন অবশ্যই তার ব্যাপারে জিঙ্গাসা হবে।আমরা যেভাবে জবান দ্বারা কথা বলি এই সবকিছু কিয়ামতের দিবসে আমল নামায় মাপা হবে। আমরা নাজায়েজ, অহেতুক, অনর্থক কথা বলি যা জাহান্নামে জাওয়ার কারণ হয়। হাদিসে আছে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য মানুষ কোন কথা বলে, কিন্তু তা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না। অথচ আল্লাহ তায়ালা সেই দ্বারা মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেয় জান্নাতে। অপরপক্ষে আল্লাহ তায়ালার অসন্তুষ্টি জনক কথা বলে তাকে সাধারণত মনে করে। কিন্তু সেই কথার কারণে তাকে জাহান্নামে ফেলে দেওয়া হয়। তাকে জাহান্নামের এতো দূর নিক্ষেপ করা হয়, যেমন তা পূর্ব থেকে পশ্চিমের দূরুতের সমান।


 এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন,


 মানুষ দুইটি জিনিসের দায়িত্ব গ্রহন করো। প্রথম হলো মানুষের দুই চোয়ালের মাঝে আছে যে জিহ্বা বা জবান। আর দ্বিতীয় হলো মানুষের দুই উরুর মাঝে আছে যে লজ্জাস্থান। এই দুই জিনিসের হেফাজত যে ব্যক্তি করবে রাসূল (সা.) সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হবে। আর এই দুটি জিনিসের করণে মানুষ অধিক হারে জাহান্নামে জাইবে। কোনো মানুষ এমন আছে যে শুধু মানুষ কে আনন্দ ফুর্তি বা হাসাবার উদ্দেশ্যে যখন কোনো কথা বলে। আর তার শাস্তি হিসেবে সেই মানুষকে জাহান্নামের এত দূরে নিক্ষেপ করা হবে। যার দূরত্ব হবে আসমান ও জমিনের মাঝে যত দূরত্ব তার সমান। এক সাহাবী রাসূল (সা.) কে জিঙ্গাসা কারেন, আপনার উম্মতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর জিনিস কোনটি। তিনি বলেন আমার উম্মতের জন্য সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর হলো জবান বা জিহ্বা।



 আমরা বর্তমান সময়ে জবানের হেফাজতের ব্যাপারে অনেক বেশি গাফেল। আমাদের প্রতেক কে অবশ্যই জবানের বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত। যেন আমরা জবান দ্বারা যা কিছু বলতেছি তা দ্বারা যদি কোনো উপকার না হয় নাই। তবে অন্তত পক্ষে তা দ্বারা যেন আমরা মুসীবদ বা আপদের মধ্যে গ্রেরেপ্তার না হই। বর্তমান সময়ে আমরা জবানের হেফাজত তো করি না। বরং এই জবান দ্বারা মিথ্যা, গীবত, অপবাদ, গালি গালাজ ইত্যাদি নাজায়েজ কাজ করতেছি। যার ফলস্রুতিতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাট্রীয় জীবনে সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। এবং আমরা নিজেদের কে জাহান্নামের দিকে ধবিতো করছি। অপরপক্ষে আমরা যদি জবানের হেফাজত করি তাহলে দুনিয়ায় ও পরকালে মুক্তি লাভ হবে।



 জবানের হেফাজতের দ্বারা পক্কা ঈমানদার হওয়া যায়।




 উত্তম আমলের মাধ্যম হলো জবান। জবানের দ্বারা উত্তম আমল কারা। আবার জবানের হেফাজতের কারার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তার জাহান্নামের আজাব থেকে নাজাত প্রদান করে। জবানের হেফাজত করার দ্বারা আল্লাহ তায়ালার জান্নাত লাভ করার একটা অন্যতম উপায়। অতএব আল্লাহ তায়ালার জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের কে জবানের হেফাজত করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের কে জবানের অপব্যবহার ত্যাগ কারে জবানের সঠিক ভাবে ব্যবহার করে নিজ নিজ জবান বা জিহ্বা কে হেফাজত করার তাওফিক দান করুন। (আমিন)
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url