পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের গুরুত্ব ও মর্যাদা (Importance and dignity of five times prayer)
আসসালামুআলাইকুম অরহমাতুল্লাহ,
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম,
সৃষ্টি জগতের মালিক মহান আল্লাহ তায়ালার কুদরত থেকে ফায়দা হাসিলের উপায় হলো, আল্লাহ তায়ালার আইন গুলো বা হুকুম গুলো রাসূল (রা.) এর তরিকায় তা আদায় করা। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও বুনিয়াদি আমল হলো নামায।
মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কারিমে বলেছেন, নিশ্চয়ই অশোচনীয় ও নির্লজ্জ কাজ সমূহ হইতে বিরত রাখে। আবার যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে। আর বিশেষ ভাবে নামায বন্দেগি ও যাকাত আদায় করেছে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে সওয়াব সংরক্ষিত রয়েছে।
আবারও আল্লাহ তায়ালা রাসূল (সা.) কে বলেছেন, আমার ঈমানদার বান্দাদের কে বলে দিন তারা যেন নামায আদায় করে এবং আমি যা কিছু তাদের কে দিয়েছি তা থেকে যে গোপনে ও প্রকাশ্যে দান খয়রাত করে। সে দিন আসার পূর্বে যে কোন কিছুর বিনিময়ের মাধ্যমে নেক আমল ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। আর কোনো বন্ধুত্ব কাজে আসবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসূল (সা.) বলেন, ইসলামের ভীতসমূহ পাঁচটি জিনিসের উপর কায়েম করা হয়েছে। যা হলো লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সাক্ষ্য দেওয়া।, নামায কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রমযানে রোযা রাখা, হজ্জ করা।
হাদিসে বর্ণিত হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেছেন নামায হলো বেহেশতের চাবি আর নামযের চাবি হলো অযূ। দ্বীন ইসলামের স্তম্ভ বা খুটি নামায। রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন আমার চোখের শীতলতা রয়েছে নামাযের মধ্যে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা পাঁচ ওয়াক্ত নামায কে ফরজ করেছেন। যে সকল মানুষ এই নামায গুলো জন্য উত্তম রুপে অযূ করে, নামায কে মুস্তাহাব ওয়াক্তে আদায় করে, রুকু সেজদা খুব বিনয়ের সাথে করে, পরিপূর্ণ খুশু-খুযুর সহিত পড়ে তাদের কে আল্লাহর মাফ করে দিবেন। আর যে মানুষ নামায গুলো কে সময় মতো আদায় করে না এবং খুশু-খুযুর পড়ে না তাদের কে আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছে হলে মাফ করবেন অন্যথায় শান্তি দিবেন।
আল্লাহ তায়ালা রাসূল (সা.) কে বলেছেন, আমি তোমার উম্মতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ করেছি এবং আমি দায়িত্ব গ্রহন করেছি যে, যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামায কে সময়মতো আদায় করিবার নিয়ত করে আমার কাছে আসে আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। আর যে ব্যক্তি নামায আদায় করে না তার জন্য আমার কোনো দায়িত্ব নাই।
অন্য একটি হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, যারা নামায পড়া জরুরি মনে করবে তারা বেহেশতে প্রবেশ করবে। আর শেষ বিচারের দিবসে সর্বপ্রথম নামাযের করা হবে। নামায ঠিক থাকলে বাকি আমলও ঠিক থাকবে। নামায খারাপ হয়ে যায় তবে বাকি আমলও খারাপ হবে। এমনও মানুষ আছে যারা নামায পড়ে আবার মিথ্যা বলে, নাময পড়ে চুরি করে, নামায পড়ে পাপ কাজ ও করে। তাদের জন্য রাসূল (সা.) বলেন তাদের নামায তাদেরকে খুব তারাতাড়ি খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখবে।
মুসলমান যখন উত্তম রুপে অযু করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সঠিকভাবে আদায় করবে তখন তাদের গুনাহ সমূহ এমন ভাবে ঝরে পড়ে যেমন গাছের পাতা গুলো ঝরে পড়ে। যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে সে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার এবাদত থেকে গাফেল ব্যক্তিদের দলভুক্ত হয় না।
আবার হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন,রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও জুমার নামায বিগত জুমার নামায পর্যন্ত এবং রমজানের রোযা বিগত রমজানের রোযা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সকল গুনাহের জন্য কাফ্ফারা হইবে। যদি আমল সমূহ পালন কারি কবিরাহ গুনাহ হতে বাঁচিয়া থাকে।
যে ব্যক্তি নামায সঠিক ভাবে করিবে এই নামায তার জন্য নূর হবে, কিয়ামতের দিবসে তার দলিল হবে এবং কঠিন বিচারের দিবসে আযাব হতে বাঁচার উপায় হবে। আর যে ব্যক্তি নামায সঠিক ভাবে আদায় করে না মৃত্যুর পরে তার নূর থাকবে না, কিয়ামতের দিবসে তার কোনো দলিল থাকবে না এবং জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার কোনো উপায় থাকবে না। সে কিয়ামতের দিবসে ফেরাউন, হামান,সাদ্দাদ ও উবাই ইবনে খালাফের সাথে থাকবে।
নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর যুগে কোনো মানুষ মুসলমান হলে সাহাবীগন তাদের সর্বোপ্রথম নামায শিক্ষা দিতেন। একদিন একজন সাহাবী রাসূল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন সময় দোয়া বেশি কবুল হয়। তখন রাসূল (সা.) বলেন রাতের শেষ অংশে এবং ফরজ নামাযের পর।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের এত মর্যাদা যে কোনো মানুষ পাঁচ ওয়াক্ত নামায এর মধ্যবর্তী সময়ের জন্য কাফ্ফারা। আর্থাৎ এক নামায হতে অপর নামায পর্যন্ত যত সগিরা গুনাহ হয় তা নামাযের বরকতে আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেয়।
অর্থাৎ, যদি কোন ব্যক্তির একটি কারখানা থাকে এবং তিনি সেই কারখানাতে কাজকর্ম করেন। সে ব্যক্তির কারখানা ও বাড়ির পথে পাঁচটি নদী আছে। সে যখন কারখানাতে কাজ করে তার শরিরে ময়লা লাগে। অতঃপর সে বাড়িতে যাওয়ার সময় প্রতিটি নদীতে গোসল করতে করতে যায়। তার বার বার কারার কারণে যেমন শরিরে ময়লা থাকে না। ঠিক একইভাবে ভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করলে বান্দার গুনাহ সমূহ থাকে না। যখনই বান্দা গুনাহ করে তখন নামযের মধ্যে দোয়া এস্তেগফার করার দারা আল্লাহ তায়ালা নামাযের পূর্বের সকল গুনাহ সমূহ মাফ করিয়া দেয়।
ওমুসলমান ও অন্যান সম্প্রদায়ের পার্থক্য হলো মুসলমান পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে। কিন্তু অন্য সম্প্রদায় তা আদায় করে না। অন্যান সম্প্রদায় দাড়ি রাখে,পাগরি পরে, লম্বা পোশাক পরে কিন্তু নামায আদায় করে না। মুসলমানদের জন্য নামায আল্লাহ তায়ালার একটা অনেক বড় নেয়ামত।
তাই আমাদের কে আল্লাহ তায়ালার এই নেয়ামত কাজে লাগিয়ে জান্নাত অর্জন করতে হবে। আমরা যেন আল্লাহ তায়ালার এই নেয়ামতের মাধ্যমে জান্নাত যাইতে পারি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক। আল্লাহ তায়ালা পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের গুরুত্ব ও মর্যাদা বুঝে আমাদের সবাই কে তা আমল করার তাওফিক দান করুন। (আমিন)
