ফরজ নামাজের পরে কিছু ছোট ছোট আমল (Some small acts after obligatory prayers)
আসসালামুআলাইকুম,
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম,
মুসলমানদের জন্য প্রতিটি কাজ, প্রতি মুহূর্তের চলাফেরা সব কিছুই ইবাদত। যদি আল্লাহ তায়ালার আদেশ এবং রাসূল (সা.) এর আদর্শ বা তরিকা অনুযায়ী হয় তখন আল্লাহ তায়ালা বান্দার সমস্ত কাজ কে ইবাদতে পরিনত করে দেয়।
অন্যান সবকিছুর মতো প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর কিছু ছোট ছোট আমল আছে। যে আমল গুলো নিয়মিত আদায় করলে বান্দার জীবন সুন্দর ও বরকতময় হয়। যার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জন করতে পারে। যে আমল গুলো আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের কে জান্নাত দিয়া দিবেন।
হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) এর পক্ষ থেকে আমাদের হুকুম করা হয়েছিল, আমরা যেন প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর সুবহানাল্লাহ তেতত্রিশ (৩৩) বার, আলহামদুলিল্লাহ তেতত্রিশ (৩৩) বার এবং আল্লাহু আকবার চৌত্রিশ (৩৪) বার পাঠ করি। এই আমলের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের কে অসংখ্য সওয়াব দান করবেন।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, একদা একজন গরিব সাহাবী রাসূল (সা.) এর নিকট প্রশ্ন করলেন, ধনী মানুষ গুলো উচ্চ সম্মান ও চিরস্থায়ী নেয়ামত সমূহ পাইলো। তিনি প্রশ্ন করলেন তা কি ভাবে? গরীব সাহাবী বলেন, তারা আমাদের মতো নামায পড়ে রোযা রাখে। তার অতিরিক্ত দান-সদকা করে। কিন্তু আমারা তা পারি না তারা গোলাম কে মুক্ত করে দিতে পারে আমরা তা পারি না। রাসূল (সা.) বলেন, তোমরা প্রত্যেক নামাযের পর সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার তেত্ত্রিশ (৩৩) বার করে পারে নাও। তোমরা তাদের থেকে বেশি সাওয়াব পাবে।
অন্য হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছিলেন, হের আবু হুরায়রা বর্ণনা করেন, যে নামাযের পর সুবহানাল্লাহ তেতত্রিশ (৩৩) বার, আলহামদুলিল্লাহ তেতত্রিশ (৩৩) বার, আল্লাহু আকবার তেতত্রিশ (৩৪) বার পড়ে তাতে ৯৯বার হয়। আর এক (১) বার পড়ে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লাশারিকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির"। একশত বার পূর্ণ করে তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনার সমান হলেও আল্লাহ তায়ালা তা মাফ করবেন।
একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলছন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করিবে তার জন্য জান্নাতে যাওয়ার পথে একমাত্র বাধা হলো মৃত্যু। মৃত্যু বরণ করলে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অন্য এক রেওয়াতে আছে আয়াতুল কুরসীর সাথে সূরা ইখলাছ পাঠ করার কথা বলা হয়েছে।
আবার যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করিবে। সে ব্যক্তি কে পরবর্তী নামায পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা তার হেফাজতে রাখিবেন। এ ভাবে প্রত্যেক নামাজের পর পাঠ করিলে পরবর্তী প্রত্যেক নামাজ পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা তাকে হেফাজতে রাখিবেন।
আবার প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর, এক(১) বার আল্লাহু আকবার ও তিন (৩) বার আসতাগফিরুল্লাহ বলা। এবং তারপর আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারকতা ইয়া যাল জালা লী ওয়াল ইকরাম এই দোয়া টি পাঠ করা। যার ফলে আল্লাহ তায়ালা বান্দার গুনাহসমূহ মাফ করে দেয় ও বান্দার আমল নামায় নেক দ্বারা পূর্ণ করে দেয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যেক ফরজ ও মাগরিবের নামাযের পর আট (৮) বার পাঠ করে "আল্লাহুম্মা ইন্নী আসয়ালুকা জান্নাতুল ফেরদৌস"। সে ব্যক্তি যদি দিনে বা রাতে মারা যায় তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জন্নাতের আট টি দরজা খুলে দেয়।
আবার, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যেক ফরজ ও মাগরিবের পর সাত (৭) বার পাঠ করে " আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার"। সে ব্যক্তি দিনে বা রাতে মারা যায় তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করবে।
রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা প্রত্যেক ফরজ ও মাগরিবের নামযের পর সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব, সূরা নাস, তিন (৩) বার করে পাঠ করো। তাহলে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কে জান্নাতে যাওয়ার পথ অনেক সহজ করে দিবেন।
আবারও কোনো ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় অর্থাৎ ফরজ ও মাগরিবের পর দশ (১০) বার করে দরুদ শরিফ পাঠ করে। তাহলে কিয়ামতের দিবসে কঠিন সময়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) তার জন্য শাফায়াত করবেন।
কোনো মানুষ এই দোয়া প্রত্যেক ফরজ ও মাগরিবের নামাযের পর পাঠ করে " রাদ্বিতু বিল্লাহি রাব্বা, ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনাঁও, ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যিা" তিন (৩) বার। সে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.) এর হাতে হাত রেখে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এবং আল্লাহ তায়ালা তাকে সন্তুষ্ট করবেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা দৈনিক একশত (১০০) বার "সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি" এই দোয়া পাঠ করো। তাহলে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের গুনাহ সমূহ মাফ করে দিবেন। যদি গুনাহ সমূহ সাগরের ফেনার সমান হয়।
পরিশেষে,পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর এই ছোট ছোট আমল গুলোর গুরুত্ব অনেক বেশি। যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের কে জান্নাতে যাওয়ার পথ অনেক সহজ করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকল মুমিন, মুসলমান কে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর এই ছোট ছোট আমল গুলো আদায় করার তাওফিক দান করুন। (আমিন)