মসজিদের ফজিলত ও কিছু আমল ( Virtues of the Mosque and some practices)

মসজিদের ফজিলত ও কিছু আমল 
( Virtues of the Mosque and some practices)



আসসালামুআলাইকুম,
বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম,


মসজিদ আল্লাহ তায়ালার ঘর। মুসলমানদের ইবাদতের স্থান। যেখানে মুসলমান দলগত বা জামায়াতের সহিত আল্লাহর ইবাদত করে। মুসলমানদের জন্য মসজিদ ঘরের ফজিলত অনেক বেশি। মুসলমানদের জন্য মসজিদের প্রতি কিছু হক বা আমল আছে। 


আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন, মসজিদ সমূহ আবাদ করা ঐ সব লোকের কাজ যারা আল্লাহ তায়ালা ও কেয়ামতের দিন এর উপর ঈমান এনেছে এবং নামায আদায় করে, যাকাত আদায় করে আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করে না। এরুপ মানুষ গুলো হেদায়াত প্রাপ্তদের অন্তর্গত হইবে।



যারা দুনিয়ায় মসজিদের খেদমত করে অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সঠিকভাবে মসজিদে আদায় করে, মসজিদ ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখে, মসজিদের হক সমূহ আদায় করে তারা যেন মসজিদ কে আবাদ করলো। এবং কিয়ামতের দিবসের জন্য প্রস্তুত থাকে তারা হেদায়াত প্রাপ্তদের দলভুক্ত হয়। হেদায়াত প্রাপ্ত গন হলেন যারা আল্লাহ তায়ালার প্রিয় বান্দা।


এক হাদিসে হযরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্নণা করেন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালার নিকট দুনিয়ার সমস্ত জায়গা থেকে সব চেয়ে প্রিয় জায়গা হলো মসজিদ সমূহ আর সর্বাধিক অপ্রিয় জায়গা হলো বাজার সমূহ। 

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)


 বলেন দুনিয়ার জমিনে মসজিদ সমূহ হলো আল্লাহ তায়ালার ঘর। এ মসজিদ গুলো আসমানবাসীদের নিকট এমন ভাবে চমকায় যেমনটা জমিনবাসীদের কাছে তারকাসমূহ চমকায়।


আবার আল্লাহ তায়ালা হেদায়ত প্রাপ্তদের অবস্থা সম্পর্কে বলেন,তারা এমন ঘরে গিয়ে ইবাদত করে যা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা হুকুম করেছেন যে তারা যেন ঐ ঘরের আদব রক্ষা করে এবং আল্লাহ তায়ালার নাম নেওয়া হয়। সে সকল ঘরে সকাল সন্ধ্যা এমন মানুষ আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা বর্নণা করে যারা আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করে, নামায আদায় করে, যাকাত প্রদান করে। তারা এমন দিন অর্থাৎ কেয়ামতের দিন কে ভয় করে, যে দিন অনেক দিল ও চোখ উলটে যাবে। 


আর মসজিদ সমূহের আদব হলো, মসজিদে গোসল ফরজ অবস্থায় অর্থাৎ নাপাক অবস্থায় প্রবেস না করা, কোনো নাপাক জিনিস না ঢুকানো, শোরগোল বা হট্টগোল না করা, দুনিয়ার কোনো কাজ বা দুনিয়াবী কথাবার্তা না বলা এবং দুর্গন্ধযুক্ত কোনো জিনিস খেয়ে মসজিদে না যাওয়া। 



রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মসজিদ তৈরি করে যাহাতে আল্লাহ তায়ালার নাম নেওয়া হয়। যে ব্যক্তি মসজিদ তৈরি করলো তার জন্য আল্লাহ তায়ালা বেহেশতে একটি ঘর নির্মান করে। আবার কোনো ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যা মসজিদে যায় আল্লাহ তায়ালা বেহেশতে মেহমানদারির ব্যবস্তা করেন। আল্লাহ তায়ালা ততোবার মেহমানদারি করেন যত বার সে মসজিদে যায়। সকাল সন্ধ্যা যাওয়া আল্লাহ তায়ালার পথে জেহাদ করার অন্তর্ভুক্ত। 


অন্য একটি হাদিসে আছে

 হযরত আবু দারদা (রা) বর্নণা করেন, রাসূল (সা.) বলেন,যে ব্যক্তি মসজিদের সাথে মহব্বত রাখে আল্লাহ তায়ালা তাকে মহব্বত করেন। মসজিদ মুত্তকীর ঘর। আল্লাহ তায়ালা নিজের দায়িত্ব নিয়ছে যে মসজিদ যার ঘর হবে তাকে শান্তি দিবেন। তা উপর রহমত নাযিল করবে, পুলছিরাতের রাস্তা সহজ করে দিবে এবং তা জান্নতে দান করবে।

হযরত আবু সাঈদ (রা.) হইতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন,  যখন তোমরা কোনো ব্যক্তিকে অধিক পরিমাণে মসজিদে আসতে অভ্যস্ত দেখ তখন তোমরা তার ঈমানদার  হওয়ার সাক্ষ্য দাও। মসজিদকে ঐ সমস্ত লোক আবাদ করে যারা আল্লাহ তায়ালা ও আখিরাতের দিনের উপর ঈমান রাখে।


অন্য একটি হাদিসে আছে রাসূল (সা.) বলেছেন, যে মুসলমান নামায ও আল্লাহ তায়ালার যিকিরের জন্য মসজিদ কে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয় আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি খুশি হয়ে যায়। মসজিদ কে ঠিকানা বানিয়ে নেয়া বলতে মসজিদের সহিত বিশেষ সম্পর্ক রাখা ও অধিক পরিমাণে মসজিদে আসা যাওয়া করা। 


যে ব্যক্তি মসজিদে অধিক পরিমাণে আসা যাওয়া করতো। তারপর কোনো কাজে মগ্ন হয়ে গিয়েছে বা অসুস্থ কারণে মসজিদে আসা বন্ধ হয়েছে। আবার আগের মতো মসজিদ কে ঠিকানা বানিয়ে নেয় আল্লাহ তায়ালা তার উপর খুশি হয়ে যায়। যারা অধিক পরিমাণে মসজিদে সমবেতো হয়ে থাকে তারা মসজিদের খুঁটি স্বরূপ।  ফেরেস্তাগন তাদের সাথে বসেন। 



হযরত আয়েশা (রা) বলেন


 রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক মহল্লায়/এলাকায় মসজিদ নির্মানের হুকুম দিয়েছেন এবং মসজিদ কে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ও খুশবু/সুগন্ধি দ্বারা সুবাসিত করার হুকুম দিয়েছেন। 



মসজিদে প্রবেশ করার সময় এই দোয়া পাঠ করতে হয়।'আল্লাহুম্মাফ তাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা'। যার বাংলা অর্থ হলো হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহ সমূহ কে ক্ষমা করে দিন এবং আপনার রহমতের দরজা আমার জন্য খুলে দিন। মসজিদে ডান পা আগে দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। 



মসজিদ থেকে বাহির হওয়ার সময় এই দোয়া পাঠ করতে হয়। 'আল্লাহুমা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিকা'। যার বাংলা অর্থ হলো হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কল্যান চাই। মসজিদ থেকে বাহির হওয়ার সময় বাম পা আগে দিয়ে বের হতে হয়।



হযরত আনাস (রা.) বলেন


, মসজিদ হইতে একজন মহিলা ময়লা উঠাইয়া ফেলে দিতেন। সেই মহিলার ইন্তেকাল হয়ে গেলো। নবী করিম (সা.) কে তার দাফনের সংবাদ দেওয়া হয় নাই। নবী করিম (সা.)বলিলেন যখন তোমাদের কারো ইন্তেকাল হয় তখন তার সংবাদ  আমাকে দিও। সেই মহিলার জানাযার নামায পড়িলেন এবং বলেন আমি তাকে জান্নাতে দেখেছি।  করণ হলো সেই মহিলা মসজিদের ময়লা উঠাইয়া ফেলে দিতেন। 


পরিশেষে আমাদেরকে মসজিদ নির্মানের পাশাপাশি মসজিদের আবাদ বা হক গুলো আদায় করতে হবে। এতে করে আমরা যেমন গুনাহের কাজ করা থেকে বেচে যাবো। আবার দুনিয়ায় শান্তি ও আখিরাতে মুক্তি এবং নাজাত লাভ করতে পারবো। যার অছিলায় আল্লাহ তায়ালা আমাদের কে জান্নাত দান করবেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের কে বুঝার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। (আমিন) 
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url