গোপনে ও প্রকাশ্যে সদকা করার ফযিলত (Virtue of giving charity secretly and publicly
আসসালামুআলাইকুম
বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম
মহান আল্লাহ তায়ালা নির্দেশিত পথে সম্পদ বা মাল খরচ করা এবং খরচ করার উৎসাহ দেওয়া অনেক ফযিলত। ঐসকল ফযিলত দেখে মনে হয় যেন টাকা পয়সা, ধন সম্পদ সঙ্গে রাখার বস্তু নয়। যেন টাকা পয়সা, ধন সম্পদ এর জন্ম হয়েছে আল্লাহ তায়ালার পথে খরচ বা সদকা করার জন্য। সদকা গোপনে বা প্রকাশ্যে যাইহোক না কেন এর ফযিলত অনেক বেশি। প্রকাশ্যে করা সদকা করা সাওয়াবের কাজ কিন্তু গোপনে সদকা করা অনেক বেশি সাওয়াবের কাজ। আবার সদকা যদি লোক দেখানো উদ্দেশ্য করা হয় তাহলে তা গুনাহের কাজ হবে। লোক দেখানোর উদ্দেশ্য সদকা করা শিরক।
আর যদি সদকা করা হয় আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তাহলে তা লোক দেখানোর উদ্দেশ্য হবে না। যদিও সেই কাজ বা সদকা প্রকাশ্যে করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে সদকা করার সময় গোপনীয়তা অবলম্বন করা অনেক উত্তম। কারণ হলো এতে করে লোক দেখানোর কোনো সুযোগ থাকে না। আবার অন্য দিক থেকে দান বা সদকা গ্রহনকারী মনে কোনো কষ্ট পায় না। যেটা প্রকাশ্যে দান বা সদকা করার সময় সদকা গ্রহনকারী অপমানিত বা লজ্জাবোধ করতে পারেন। প্রকাশ্যে সদকা করার সময় যদিও সদকাকারী দাতার মনে কোনো লোক দেখানো উদ্দেশ্য থাকে না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মানুষের দানশীলতা প্রকাশ পায়।
তখন নিজের মনের মধ্যে একটা অহমিকা ভাব জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে। আবার মানুষের মধ্যে যদি প্রসিদ্ধি ছরিয়ে পরে তখন অনেক মানুষ সওয়াল করে বিরক্তিতে ফেলতে পারে। এবং দুনিয়ার বিভিন্ন প্রকার সমস্যা হতে পারে। যেমন, হিংসুকদের শত্রুতা,চোরের দৃষ্টি, ট্যাক্স। ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) বলেন, গোপনে সদকা করা মানুষ দেখানো ও খ্যাতি অর্জন করা হইতে অনেক দূরে থাকে। আবার রাসূল (সা.) বলেন, উত্তম সদকা হলো সেটা যখন কোনো অভাবী মানুষ নিজে সৎ পথে পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করে ঐ অর্থ গোপনে দান করে। আর যে মানুষ খ্যাতি অর্জন, জনসমাবেশে দান করে ও নিজের দান সম্পর্কে বলে বেরায় সে গুনাহের কাজ করলো। যেখানে খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্য দান করা হবে সেখানে আমল নষ্ট হবে।
সম্পদের মায়া মোহাব্বত দূর করতে যাকাত কে ওয়াজিব করা হয়েছে। আর সম্মান, খ্যাতি অর্জন মানুষের মাঝে সম্পদের মায়া মোহাব্বতের থেকেও বেশি। যা আখেরাতে ধ্বংসের কারণ হয়ে দরাবে। কৃপনতার আচরণ কবরে বিচ্ছু ও লোক দেখানোর উদ্দেশ্য কবরে অজগর সাপের আকার ধারন করবে। আবার এতো কিছুর মাঝেও প্রকাশ্যে করার মাধ্যমে দ্বীনের স্বার্থ আছে। প্রকাশ্যে দান অন্যদের কে দান করতে উৎসাহিত করে। কেননা অনেক সময় সদকা দ্বারা দ্বীনের প্রয়োজন পূরন হয়। এমন ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে সদকা করা অন্য মানুষের উৎসাহ হবার কারণ দ্বারায়। এই অছিলায় দ্বীনের প্রয়োজন পূরন হয়। রাসূল (সা.) বলেন শব্দ করে কুরআন পাঠ করা প্রকাশ্যে দানকারীর মতো।
আর নিঃশব্দে কুরআন পাঠ করা গোপনে দানকারীর মতো। সময় অনুযায়ী কুরআন শব্দ করে পাঠ করা উত্তম আর কখনো নিঃশব্দে পাঠ করা উত্তম। সদকার ক্ষেত্রেও ঠিক একই রকম বিষয়। ফরজ সদকা প্রকাশ্যে আদায় করা উত্তম। যেমন, যাকাত। কারণ এটি অন্য মানুষদের কে আদায় করতে উৎসাহিত করে। এবং যাকাত আদায় না করার অপবাদ থেকেও বাঁচায়। আর নফল সদকা গোপনে আদায় করা উত্তম। এটি অবস্থার উপর নির্ভর করে ভিন্ন হয়। যদি জালিম শাসক হয় তবে যাকাতে এবং যাকাতের সম্পদ গোপনে থাকে তবে তা গোপনে আদায় করা উত্তম। আবার যদি এমন হয় যে কোনো ব্যক্তিকে অনুসরণ করে অন্যরা আমল করে সেক্ষত্রে নফল সদকাও প্রকাশ্যে আদায় করা উত্তম। ফরজ এবাদত গোপনে আদায় করলে যেমন নিজের উপর আদায় না করার অপবাদ আসে।
অন্য দিকে আপন সাথীরা মনে করে ঐব্যক্তি অমুক এবাদত আদায় করে না। যার কারণে বাকিদের এবাদাতের গুরুত্ব কমে যায়। ঠিক একইভাবে নফল এবাদতও যদি অন্যদের অনুসরণের সম্ভাবনা থাকে তবে তা প্রকাশ্যে আদায় করা উত্তম। সদকার ক্ষেত্রেও ঠিক একইভাবে অনুসরণ করতে হবে। রাসূল (সা.) বলেন, নেক আমলসমূহ গোপনে আদায় করা প্রকাশ্যে আদায় করার থেকে উত্তম। কিন্তু ঐ মানুষের জন্য প্রকাশ্যে আদায় করা উত্তম যে তাকে অন্যরা অনুসরণ করে। হাদিসে আছে, কিয়ামতের দিবসে প্রতিটি মানুষ তার আপন সদকার ছায়ায় থাকবে। যতক্ষন না বিচারের ফয়সালা হয়। কিয়ামতের দিবসে যখন সূর্য মথার উপরে থাকবে তখন মানুষের উপর তার সদকার পরিমাণ ছায়া থাকবে। দুনিয়াতে যত বেশি সদকা করবে কিয়ামতের দিবসে ততো বেশি ছায়া হবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন
এক মুষ্টি খেজুর বা এক টুকরো রুটি এমন কিছু সামান্য জিনিস যার দ্বারা অভাবী মানুষের প্রয়োজন মিটানো যায়। তিন ব্যক্তি কে জন্নাতে প্রবেশ কারবে, ১. যে ব্যক্তি সদকা করার হুকুম করে(বাড়িওয়ালা)। ২. যে খাবার তৈরি করেছে(বাড়ির মহিলা)। ৩. যে ফকিরের কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছে (খাদেম)।
- হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসূল (সা.) আয়েশা (রা) বলেন,
নিজেকে আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকে কিনে লও।তা যদিও একটুকরা খেজুরের দ্বারা হোক না কেন। আমি তোমাকে আল্লাহ তায়ালার কোনো প্রশ্ন থেকে রক্ষা করতে পারবো না। হে আয়েশা সওয়াল কারী তোমার কাছ থেকে খালি হাতে না ফিরে। যদিও বকরির একটি খুরই হোক না কেনো তাকে দান করো। সদকা কবরের তাপ দূর করে। কবরের আজাব থেকে রক্ষা করে। সদকা বিপদ আপদ দূর করে। সদকা অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করে। সদকা হায়াত বৃদ্ধি করে। সদকা অহংকার ও গর্ব দূর করে। সর্বোপরি সদকা আদায় করার মাধ্যমে দুনিয়াতে কামিয়াবি ও আখিরাতে মুক্তি-শান্তি দেয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের কে প্রকাশ্যে ও গোপনে আদায়ের ফযিলত বুঝার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। (আমিন)
.png)